বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনে হামলার হুমকি ISI র তৈরী আজাদী পার্টির

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ (High Commission)সম্পর্কে চড়া উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নবগঠিত ‘বাংলাদেশ আজাদী পার্টি’র এক মহিলা নেত্রী ভারতীয় হাইকমিশনে হামলা চালিয়ে…

threat-to-indian-high-commission-bangladesh

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ (High Commission)সম্পর্কে চড়া উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নবগঠিত ‘বাংলাদেশ আজাদী পার্টি’র এক মহিলা নেত্রী ভারতীয় হাইকমিশনে হামলা চালিয়ে “প্রতিটি ইট খুলে ফেলার” হুমকি দিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। এই দলটিকে জামায়াতে ইসলামীর অফশুট হিসেবে দেখা হয় এবং পাকিস্তানের আইএসআই-এর অর্থায়নে চালিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।সূত্র অনুসারে, আজাদী পার্টির এই নেত্রী প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে ভারতীয় হাইকমিশনকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হবে। দলটি সম্প্রতি ‘ভারতীয় আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার ১৭ দফা কর্মসূচি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত কয়েকদিনে ঢাকার গুলশান এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ নেপালের ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের পরিকল্পনা আটকে দিল ভারত

পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দিলেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে ‘ভারত বিরোধী’ স্লোগান দেন এবং ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুত্তলিকা পোড়ান।আজাদী পার্টির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর যোগসূত্র দীর্ঘদিনের। জামায়াত ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়ে পরিচিত। কিছু সূত্র দাবি করেছে, এই নতুন দলের পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর অর্থ ও সমর্থন রয়েছে।

এছাড়া লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।ভারত সরকার এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে যে হাইকমিশন ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। এর আগেও ঢাকায় ভারতীয় মিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে এবং কয়েকজন নেতা ‘সেভেন সিস্টার্স’ (ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল) নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই ভারত-বিরোধী মনোভাব বেড়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াতপন্থী ও ইসলামিস্ট গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজাদী পার্টি ১১ দফা দাবিতে ভারতীয় কনস্যুলেট বন্ধ, ভিসা সেন্টার বন্ধ, সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধসহ কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে কেউ কেউ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ বললেও, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এতে পাকিস্তানি প্রভাব দেখছেন।