গুয়াহাটি: অসম পুলিশের বিশেষ অভিযানে বমাল সমেত ধরা পড়ল বন্যপ্রাণী পাচার চক্র। (Golden Langur)অসম পুলিশের টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) একটি সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী পাচার চক্রকে অনেকদিন ধরেই ট্র্যাক করছিল। আজ চিরাং জেলায় অভিযান চালিয়ে এসটিএফ ৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮টি বিপন্ন প্রজাতির গোল্ডেন লেঙ্গুর। এই লেঙ্গুরগুলোকে কোকরাঝাড়ের উল্টাপানি এলাকা থেকে চোরাই পথে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল।
গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ জামাল রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইনজামামুল হক, আব্দুল খালেক, ফকির চাঁদ এবং আলমগীর মোল্লা। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি চারজনকেও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অসম-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
আরও দেখুনঃ বঙ্গে দাম আকাশ ছোঁয়া! মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চোরাচালান হচ্ছে বস্তা বস্তা রসুন
গোল্ডেন লেঙ্গুরের মতো বিরল প্রাণীকে আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্কের কাছে বিক্রির জন্য তারা সংগ্রহ করছিল।গোল্ডেন লেঙ্গুর (Trachypithecus geei) বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন প্রাইমেট প্রজাতি। এদের সংখ্যা বর্তমানে খুবই কম এবং এরা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। অসম এবং ভুটানের কিছু নির্দিষ্ট বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়। উল্টাপানি এলাকা গোল্ডেন লেঙ্গুরের অন্যতম আবাসস্থল। চোরাচালানকারীরা সাধারণত রাতের অন্ধকারে এই প্রাণীগুলোকে ফাঁদে ফেলে ধরে এবং ছোট খাঁচায় করে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর চেষ্টা করে।
এই প্রাণীগুলোকে পোষ্য হিসেবে বা অবৈধ বাণিজ্যের জন্য বিদেশে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।এসটিএফের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালাই। চিরাংয়ের একটি গোপন স্থান থেকে ল্যাঙ্গুরগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তরা এই প্রাণীগুলোকে সুস্থ অবস্থায় রাখার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেকগুলো প্রাণী ইতিমধ্যে আহত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল।” উদ্ধার করা লেঙ্গুরগুলোকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই ঘটনা অসমের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। অসম-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বন্যপ্রাণী, হাতির দাঁত, চন্দন কাঠ বিভিন্ন দুর্লভ সম্পদের চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র এইসব পাচারের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় লোকজনকে টাকার লোভ দেখিয়ে এই কাজে ব্যবহার করা হয়।বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তাঁরা বলছেন, গোল্ডেন লেঙ্গুরের মতো প্রজাতি বাঁচাতে আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুসারে এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখছে এই চক্রের সঙ্গে আর কোনো বড় নেটওয়ার্ক জড়িত কি না।



