বঙ্গে দাম আকাশ ছোঁয়া! মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চোরাচালান হচ্ছে বস্তা বস্তা রসুন

কলকাতা: মেঘালয়ের ঘন সবুজ পাহাড় আর ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য যুদ্ধ (Garlic Smuggling)। প্রতি রাতে, যখন সীমান্তের গ্রামগুলো ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শুরু…

garlic-smuggling-bangladesh

কলকাতা: মেঘালয়ের ঘন সবুজ পাহাড় আর ঘন জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য যুদ্ধ (Garlic Smuggling)। প্রতি রাতে, যখন সীমান্তের গ্রামগুলো ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শুরু হয় চোরাচালানের খেলা। ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে টন টন রসুন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি আর সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একই আলোচনা সীমান্তের এই অবৈধ বাণিজ্য কতদূর গড়াবে? এদিকে ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গে রসুনের দাম আকাশ ছোঁয়া।

সম্প্রতি পাওয়া তথ্য অনুসারে, মেঘালয়-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতি সপ্তাহে কয়েক টন রসুন চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো হিলস, ওয়েস্ট খাসি হিলসসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতের অন্ধকারে ট্রাক, ঘোড়ার গাড়ি, এমনকি মাথায় করে মানুষজন এই রসুন বহন করে সীমান্ত পার করায়।

   

আরও দেখুনঃ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে কাঁপল ঢাকা! কট্টরপন্থীদের রুখতে মশাল হাতে বিক্ষোভ হিন্দুদের

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দুই পক্ষই মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু মালামাল আটক করলেও, চোরাচালানের স্রোত থামছে না। বাংলাদেশের চাষীদের মতে “ভারতে রসুনের দাম কম থাকায় চোরাকারবারিরা সস্তায় কিনে এখানে বেশি দামে বিক্রি করছে। দেশের চাষিরা তো আর পারছে না এই দামে প্রতিযোগিতা করতে।” বাংলাদেশে বাজারে দেশি রসুনের দাম যখন কেজিতে ১৫০-২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন চোরাই ভারতীয় রসুন ৮০-১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের বাজারের অনেক দোকানেই এখন ‘ইন্ডিয়ান গার্লিক’ বলে চোরাই মাল বিক্রি হচ্ছে খোলাখুলি। মেঘালয় সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি গ্রামগুলোতে এই চোরাচালানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় যুবকরা রাতের বেলা চোরাকারবারিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিছু টাকা রোজগারের আশায় ঝুঁকি নিচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে এই চোরাচালান দেশের রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতি করছে।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা রসুনের কারণে সরকারি আয় কমছে, পাশাপাশি দেশীয় কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশায় পড়ছেন। অনেক চাষি জানিয়েছেন, তারা এবার রসুন চাষ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে দেশি উৎপাদন আরও কমে গেলে বাজারে নির্ভরতা বাড়বে চোরাই মালের ওপর। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন সীমান্তে কয়েকশ কেজি রসুনসহ অন্যান্য পণ্য আটক হয়েছে। তবে সীমান্তের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি এবং ভূ-প্রকৃতি জটিল হওয়ায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। বিএসএফের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা সতর্ক রয়েছে এবং চোরাচালান রোধে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।