সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) সমর্থকদের কাছে অস্কার ব্রুজো (Oscar Bruzon) যেন স্বপ্নের সওদাগর। প্রয়াত বাঙালি কোচ সুভাষ ভৌমিকের পর ক্লাবকে জাতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়ন করার ক্ষেত্রে এই স্প্যানিশ কোচের গুরুত্ব অপরিসীম। একটা সময় দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ তথা আইএসএলে কার্যত ব্যাকফুটে থাকা ইস্টবেঙ্গল দলের দায়িত্বে এসেছিলেন অস্কার। তাঁর তত্ত্বাবধানেই সেই টুর্নামেন্টে জয়ের সরণীতে ফিরেছিল ময়দানের এই প্রধান। সেবার খেতাব জয় সম্ভব না হলেও খুব একটা খারাপ ফুটবল খেলেনি ইস্টবেঙ্গল। তবে খেতাব না পাওয়ার যন্ত্রনা ছিল সমর্থকদের মধ্যে।
Also Read |
তাই সবদিক মাথায় রেখেই গত সিজনের জন্য দল সাজিয়েছিল ম্যানেজমেন্ট। যেখানে বিদেশি ফুটবলারদের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিভাদের উপরে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ নজর। কোচের নির্দেশ মেনেই গঠন করা হয়েছিল দল। তাদের নিয়েই যথেষ্ট দাপুটে ফুটবলের মধ্য দিয়ে মরসুম শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপের পাশাপাশি আইএফএ শিল্ড ও সুপার কাপের মতো সর্বভারতীয় কাপ টুর্নামেন্টে ও যথেষ্ট দাপট ছিল ফুটবলারদের। তবে চূড়ান্ত সাফল্য না আসায় হতাশা দেখা দিয়েছিল সমর্থকদের মধ্যে। পাখির চোখ ছিল দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ তথা আইএসএল।
সেখানেই শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করে ইস্টবেঙ্গল। টুর্নামেন্টের অন্তিম ম্যাচে ইন্টার কাশীকে পরাজিত করে প্রায় ২২ বছর পর জাতীয় লীগ জয় করে লাল-হলুদ। সেই নিয়ে খুশির আমেজ ছিল সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু গত কয়েকদিনে দলবদলের বাজার থেকে উঠে আসা একাধিক খবর বদলে দিয়েছে পরিস্থিতি। পূর্বেই দল ছেড়ে ছিলেন সায়ন বন্দোপাধ্যায়ের মতো ফুটবলার। সেই পথ ধরেই পড়শী ক্লাবে যোগদান করতে চলেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা মিগুয়েল ফেরেইরা। তবে সকলের আশা ছিল হয়তো নিজের চেনা পরিবেশেই থেকে যাবেন কোচ অস্কার ব্রুজো। কিন্তু না ঘন্টা কয়েক আগেই সোশ্যাল সাইটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন আইএসএল জয়ী এই কোচ।
Also Read |
যেখানে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘ আমি সাম্প্রতিক জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চাই, ইস্টবেঙ্গল এফসি আমাকে প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিক চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে এবং আমি সেই বিশ্বাসের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। অনেক চিন্তাভাবনার পর, আমি ক্লাবে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি একটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, তবে আমার ক্যারিয়ারের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমরা একসাথে যা তৈরি করেছি তার জন্য আমি অপরিসীম গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।’
আরও লেখেন, ‘ একটি এএফসি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো, ২২ বছরের অপেক্ষার পর আইএসএল শিরোপা জয় এবং দুটি মেজর কাপ ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট, খেলোয়াড়, স্টাফ এবং আপনারা, অর্থাৎ সমর্থকরা যারা পুরো সিজন জুড়ে আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, তাদের ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না।
ধন্যবাদ, ইস্ট বেঙ্গল, সবকিছুর জন্য।’



