সই-কাণ্ডে এবার শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি-র হানা

কলকাতা: বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তে আরও তৎপরতা বাড়াল সিআইডি। শনিবার সকালে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পৌঁছায় বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক…

কলকাতা: বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তে আরও তৎপরতা বাড়াল সিআইডি। শনিবার সকালে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পৌঁছায় বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাড়িতে। সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রবীণ এই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সিআইডি আধিকারিকেরা। এ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন শোভনদেব। পাশাপাশি, এই ঘটনায় যাঁরা অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রবীণ নেতার কথায়, “আমি তদন্তে ২০০ শতাংশের বেশি সহযোগিতা করব। তবে যাঁরা এই অভিযোগ করেছেন, তাঁদেরও প্রশ্ন করা দরকার। কারণ, রেজলিউশনে স্বাক্ষরের সময় সকলেই উপস্থিত ছিলেন।”

রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেবকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছেছিলেন। পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করে দলের তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু স্পিকার সেই চিঠি গ্রহণ করেননি। উলটে চিঠিতে থাকা সইয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সই জালিয়াতির অভিযোগ জানান স্পিকারের কাছে। এই ঘটনার পরই দলবিরোধী কাজের জন্য ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল।

   

তবে জল এখানেই থেমে থাকেনি। দল বহিষ্কার করলেও পরে ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে ঋতব্রত স্পিকারকে চিঠি দেন এবং স্পিকার তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যে সই কাণ্ডের তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তদন্তে নেমে ভবানী ভবনের সিআইডি দফতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বেশ কয়েক জন তৃণমূল বিধায়কের হাতের লেখার পরীক্ষামূলক নমুনাও সংগ্রহ করেছে সিআইডি। তদন্তের অঙ্গ হিসেবে শুক্রবারই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস ধরাতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু তিনি দিল্লিতে থাকায় পরিবারের কেউ তা গ্রহণ করতে চাননি। শনিবার ফের তাঁর বাড়িতে তদন্তকারীদের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্য দিকে, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব। সিঙ্গল বেঞ্চ ওই সিদ্ধান্তে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি। এর পর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব আবার হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছেন। আগামী সপ্তাহে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি হতে পারে।