পূর্বাঞ্চলেই ভারতের খনিজ ভাণ্ডার, লিথিয়ামে স্বনির্ভরতার বার্তা GSI প্রধানের

পূর্ব ভারতের খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে জিএসআই প্রধান অসিত সাহা জানালেন, লিথিয়াম উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগোচ্ছে ভারত। রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও জম্মু-কাশ্মীরে মিলেছে সম্ভাবনাময় ভাণ্ডার।

eastern-india-mineral-hub-lithium-self-reliance-hopes-gsi-chief

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতের খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরলেন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (GSI) ডাইরেক্টর জেনারেল অসিত সাহা। শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত ASSOCHAM Eastern Region’s 4th Minerals and Mining Conclave 2026-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের খনিজ সম্পদ আহরণে পূর্বাঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অসিত সাহা জানান, বক্সাইট, লৌহ আকরিক (Iron Ore), ক্রোমাইট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। আর এই খনিজগুলির উল্লেখযোগ্য অংশ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খনন করা হয়। তাঁর কথায়, “এই অঞ্চলে খনিজ সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশের এই অংশে এমন একটি সম্মেলনের আয়োজন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”

   

ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লিথিয়াম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দেন জিএসআই প্রধান। তিনি জানান, রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং জম্মু ও কাশ্মীরে লিথিয়ামের ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে।

তবে শুধুমাত্র খনিজের সন্ধান পাওয়াই যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। অসিত সাহার মতে, এই সম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে খনন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং প্রযুক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, “লিথিয়ামের খনি আবিষ্কৃত হয়েছে ঠিকই, তবে সেগুলিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সময় লাগবে। এর জন্য উন্নত প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে ভারত ভবিষ্যতে লিথিয়ামের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে লিথিয়ামের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে দেশের নিজস্ব লিথিয়াম উৎপাদন শুরু হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

খনিজ সম্পদ আহরণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণে পূর্বাঞ্চল আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।