সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলা। আগামী ২০ জুন তারকেশ্বরের (Tarakeswar) মাটিতে উদযাপিত হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। সেই উপলক্ষে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকেও উপেক্ষা করে দিনরাত এক করে কাজ করছেন মঞ্চসজ্জার শিল্পী ও কর্মীরা। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানের জন্য তারকেশ্বর বৈদ্যবাটি ১২ নম্বর রোড সংলগ্ন বালিগড়ি মাঠে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল আয়োজন। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে মনোমুগ্ধকর Tarakeswarফুলের সাজ। মঞ্চসজ্জার জন্য থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অ্যান্থুরিয়াম ফুল। পাশাপাশি তামিলনাড়ুর উটি থেকে এসেছে রঙিন জারবেরা ও সুগন্ধি লিলি। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা হয়েছে নানা প্রজাতির ফুল। সেই ফুলের সম্ভার দিয়েই সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মূল মঞ্চ ও সভাস্থলের বিভিন্ন অংশ। ফুলের বাহারে উৎসবের আবহ আরও বর্ণময় হয়ে উঠেছে।
মঞ্চসজ্জার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থেকে আসা ২৬ জন দক্ষ ফুলশিল্পী। গত কয়েকদিন ধরে তাঁরা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কাজে কোনও খামতি নেই। লক্ষ্য একটাই—পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের সামনে একটি স্মরণীয় পরিবেশ তৈরি করা।
শুক্রবার অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সভাস্থল পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দার, বিধায়ক সন্তু পান এবং দীপাঞ্জন গুহ। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একাধিক জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তাঁরা পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানের জন্য বালিগড়ি মাঠে পাঁচটি বিশাল হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছে। মূল মঞ্চকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে সমগ্র অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। সভাস্থলের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে হেলিপ্যাড, যেখানে বিশিষ্ট অতিথিদের আগমনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে প্রবেশপথে কড়া নজরদারি চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে রয়েছে বিশেষ রঙের ছোঁয়া, যা অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। সভাস্থলের চারপাশে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে তুলে ধরতে বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। কলকাতার চিরচেনা হলুদ ট্যাক্সি, হাতে টানা রিকশা, দক্ষিণেশ্বর মন্দির, বেলুড় মঠ, মৃৎশিল্পীদের কর্মযজ্ঞসহ বাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতির ছবি দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।



