বোলপুর: বীরভূম জেলা। এখানকার পাথরের ব্লক (birbhum) একসময় রাজ্যের অন্যতম বড় রাজস্বের উৎস ছিল। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, সেই খনি থেকে রাজস্বের পরিমাণ কমতে কমতে একেবারে তলানিতে ঠেকেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বীরভূম স্টোন ব্লক থেকে মাসিক রাজস্ব ছিল মাত্র ১৮ কোটি টাকা। অথচ বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার (কেন্দ্র ও রাজ্যে সমন্বয়) ক্ষমতায় আসার পর সেই একই ব্লক থেকে রাজস্ব লাফিয়ে উঠেছে ৭০ কোটি টাকায়।
আর আগামী মাসে তা ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র একটি ব্লক থেকেই মাসে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি এই সংখ্যা শুনলে চোখ কপালে ওঠে।স্থানীয় প্রশাসন ও খনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণে খনির পুরো সম্ভাবনাই কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। অনেক জায়গায় অবৈধ খনন চলত, টাকা উঠত পকেটে, আর সরকারি কোষাগারে আসত নামমাত্র অংশ।
আরও দেখুনঃ প্রমাণিত মোদী বাণী! মাও জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত যাদবপুরের রিসার্চ স্কলারের বাড়িতে NIA
সাধারণ মানুষ দেখত তাদের এলাকার সম্পদ লুট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কিছু করার ছিল না। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। নিয়মিত অকশন, সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ খনন বন্ধ এবং রাজস্ব আদায়ের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় ফল মিলছে হাতে হাতে।
এই পরিবর্তন শুধু রাজস্বেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় কর্মসংস্থান বেড়েছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে এবং জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বীরভূমের এই একটি ব্লকের উদাহরণ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় পুরো পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতির স্কেল কতটা বিশাল ছিল। যদি শুধু একটি খনি ব্লক থেকে এতটা পার্থক্য হয়, তাহলে রাজ্যের অন্যান্য খনি, বন্দর, বাজার, কর আদায় এবং বিভিন্ন বিভাগে মিলিয়ে কত হাজার কোটি টাকা প্রতি মাসে লুট হয়ে যেত, তা সহজেই অনুমেয়।
বিজেপি নেতারা বলছেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের অর্থ হলো কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টা। কেন্দ্রের স্বচ্ছ নীতি ও রাজ্য সরকারের দৃঢ় ইচ্ছার ফলে দুর্নীতির জাল ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রচার। কিন্তু সংখ্যা তো মিথ্যে বলে না। ১৮ কোটি থেকে ৭০ কোটি, এবং শিগগিরই ১০০ কোটি এই বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের চোখে স্পষ্ট।



