নয়াদিল্লি: জল্পনার অবসান৷ অবশেষে ভারতের শেয়ার বাজারে আসতে চলেছে টেলিকম জায়ান্ট ‘জিয়ো’ (Jio)। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) বার্ষিক সাধারণ সভায় একথা ঘোষণা করেন খোদ সংস্থার চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। তিনি জানান, রিলায়্যান্স বোর্ড ইতিমধ্যেই জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের ‘ড্রাফ্ট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস’ (DRHP)-এ ছাড়পত্র দিয়েছে। শুক্রবারই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির (SEBI) কাছে সেই ড্রাফ্ট জমা দেওয়া হবে। (Jio IPO announced by Reliance Industries)
দেশের অন্যতম বড় আইপিও (IPO)
ভারতের টেলিকম সেক্টরে জিও-র একচেটিয়া দাপট কারও অজানা নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই অনেকদিন ধরেই শেয়ারবাজারে জিয়োর আত্মপ্রকাশের অপেক্ষা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছরের বার্ষিক সাধারণ সভাতেই জিও-র আইপিও নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন মুকেশ আম্বানি। জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই জিও-কে শেয়ার বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সেই কথা রেখেই এবার চূড়ান্ত ঘোষণাটি সেরে ফেললেন তিনি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বৃহত্তম টেলিকম এবং ডিজিটাল সার্ভিস সংস্থা হওয়ায় জিও-র আইপিও নিঃসন্দেহে শেয়ার বাজারে এক বিরাট আলোড়ন ফেলতে চলেছে। শুধু টেলিকম নয়, জিও এখন ক্লাউড (Cloud), ডিজিটাল সলিউশন, এন্টারপ্রাইজ সার্ভিস এবং আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) মতো সেক্টরেও নিজেদের ব্যবসা বিস্তার করেছে। কয়েক কোটি গ্রাহকের এই শক্তিশালী ভিতের কারণে জিও-র শেয়ার নিয়ে লগ্নিকারীদের মধ্যে যে প্রবল উন্মাদনা তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য।
‘আবেগঘন মুহূর্ত’, স্মরণ করলেন ধীরুভাই আম্বানিকেও
এদিনের সভায় আইপিও ঘোষণার পাশাপাশি কিছুটা আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন মুকেশ আম্বানি। তিনি বলেন, “এটি আমাদের রিলায়্যান্স পরিবারের জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত।” তাঁর কথায়, রিলায়্যান্স এবং এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা নিছকই ব্যবসায়িক নয়, বরং বিশ্বাস এবং সম্মানের। একে অপরকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করাই রিলায়্যান্সের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এই বিশেষ দিনে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা বাবা ধীরুভাই আম্বানিকেও স্মরণ করেন মুকেশ। তিনি বলেন, “শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ভ্যালু ক্রিয়েশন বা সম্পদ বৃদ্ধির যে দৃষ্টিভঙ্গি, তার মূল প্রণেতাই হলেন ধীরুভাই আম্বানি। আর আজও রিলায়্যান্স সেই মূলমন্ত্র মেনেই এগিয়ে চলেছে।”
দায়িত্বে আম্বানির ‘নেক্সট জেন’
রিলায়্যান্সের এই মেগা আইপিও-র সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কারা সামলাচ্ছেন, এদিন সেকথাও খোলসা করেছেন মুকেশ আম্বানি। তিনি জানান, তাঁর তিন সন্তান, আকাশ, ঈশা এবং অনন্ত আম্বানিই জিয়োর আইপিও-র পুরো বিষয়টি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অর্থাৎ, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আইপিও-র হাত ধরেই রিলায়্যান্স সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ কান্ডারীদের ওপর আরও বড় দায়িত্ব তুলে দিলেন মুকেশ আম্বানি।


