বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হল একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের (NCPI) একাধিক সাংসদ, যার মধ্যে ছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ ও জনপ্রতিনিধি। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার আক্রমণ, কটূক্তি এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষমূলক প্রচারের জেরে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন দলের একাংশের সাংসদরা। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই মূলত এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন (NCPI) সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য, ট্রোল এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে।বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের অনেকেই মনে করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্রের দাবি, সাংসদরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক সমালোচনা তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক মন্তব্য কিংবা ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে চরিত্রহননের প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আইনি পথেও হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে কীভাবে এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু আইনি পদক্ষেপ নয়, সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান কীভাবে তুলে ধরা হবে, তা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়। কারণ, সাংসদদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক তথ্য বা মন্তব্য বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেত্রী ও সাংসদরা মনে করেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সেখানে সক্রিয় উপস্থিতি যেমন জরুরি, তেমনই মিথ্যা প্রচার বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়াও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।



