ইউনূসের ‘চার্টার’ ঘিরে সংঘাত! তারেক সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি জামায়াতের

ঢাকা: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খোলনলচে বদলে ফেলতে বিশেষ ‘জুলাই চার্টার’ বা ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছিলেন তৎকালীন…

Jamaat-e-Islami demands implementation of Bangladesh July Charter

ঢাকা: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খোলনলচে বদলে ফেলতে বিশেষ ‘জুলাই চার্টার’ বা ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই সংস্কার-প্যাকেজ বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে, এই অভিযোগে এবার রাজপথে নামার চরম হুঁশিয়ারি দিল দেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। (Jamaat-e-Islami demands implementation of Bangladesh July Charter)

রাজপথে ফয়সালার হুঁশিয়ারি

সিলেটে বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান শাসকদল বিএনপি-কে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংসদে যদি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে কোনও ইতিবাচক সমাধান না মেলে, তবে রাজপথেই এর ফয়সালা হবে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের রায় বাস্তবায়নের পথ থেকে এক পা-ও পিছোব না। সরকার যদি এই ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে, তবে বৃহত্তর আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও বিকল্প থাকবে না।” জামায়াতের জোটসঙ্গী ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’-ও গত এপ্রিল মাস থেকে এই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে তিন মাসের লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে।

   

কী এই ‘জুলাই চার্টার’?

মুহাম্মদ ইউনূসের মস্তিষ্কপ্রসূত এই ৮৪ দফার ব্লু-প্রিন্টে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপক রূপরেখা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় রাশ টানা, বিচারবিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিএনপি ও জামায়াত-সহ অধিকাংশ দল এই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি এই সনদের ওপর একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে রায় দেন।

কেন আটকে সনদের বাস্তবায়ন?

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে ইউনূস সরকারের তৈরি করে যাওয়া একটি নিয়মকে কেন্দ্র করে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি ‘সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ’ গঠনের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথ নিতে হতো। কিন্তু বিএনপি সাংসদরা সাধারণ শপথ নিলেও, ওই পরিষদের জন্য দ্বিতীয়বার শপথ নিতে সরাসরি অস্বীকার করেন। তাঁদের যুক্তি, তাঁরা সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, কোনও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়। যদিও প্রকাশ্যে তারেক রহমান বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো শীর্ষ বিএনপি নেতারা বারবার এই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বাস্তবে তা বিশ বাঁও জলেই রয়ে গিয়েছে।

বিদেশি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা

রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি, জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়েও সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে বিরোধী দলনেতা শফিকুর রহমান আমেরিকা, ব্রিটেন, ডেনমার্ক এবং সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। ডেনমার্কের দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে এই সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হওয়ার কথাও স্বীকার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইউনূসের তৈরি করে দেওয়া এই ‘জুলাই চার্টার’ ঘিরেই এখন বাংলাদেশের শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত চরমে। আগামী দিনে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।