‘পশ্চিমবঙ্গ আমার, অসম আমার, মণিপুর আমার!’ ফের উস্কানি জামাত পন্থী পাটোয়ারীর

ঢাকা: বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-এর প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী (Nasiruddin Patwari)ফের বিতর্কের কেন্দ্রে। তার একটি বক্তব্য ঘিরে দুই দেশে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি…

nasiruddin-patwari-controversy-west-bengal-assam-manipur-comments

ঢাকা: বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-এর প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী (Nasiruddin Patwari)ফের বিতর্কের কেন্দ্রে। তার একটি বক্তব্য ঘিরে দুই দেশে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শাহবাগে একটি সমাবেশে তিনি পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও মণিপুরকে বাংলাদেশের বদ্বীপের অংশ বলে দাবি করেন এবং বলেন, বাংলাদেশ এই অঞ্চলের প্রায় ১৭ কোটি বাসিন্দার দায়িত্ব নিতে সক্ষম। এই মন্তব্যকে অনেকে ‘অযৌক্তিক ও উস্কানিমূলক’ বলে সমালোচনা করেছেন।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আমার, অসম আমার, মণিপুর আমার। এই পুরো বদ্বীপটাই আমাদের।” তিনি আরও দাবি করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের দেখভাল করতে পারবে। “অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন” নিয়ে ভারতীয়দের বক্তব্যের জবাবে এই মন্তব্য করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এনসিপি নেতা বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশ নিয়ে কোনো স্বপ্ন দেখে, তাহলে বাংলাদেশও তার প্রতিউত্তর দিতে প্রস্তুত।

   

আরও দেখুনঃগরমে স্বস্তি! ঝেঁপে নামবে বৃষ্টি! ভিজবে দক্ষিণের কোন কোন জেলা?

এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতারা একে “সীমান্ত লঙ্ঘনের মানসিকতা” বলে নিন্দা করেছেন। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “একটি প্রতিবেশী দেশের নেতার এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য সীমান্তে অশান্তি তৈরি করতে পারে। ভারত সার্বভৌম দেশ, এ ধরনের অবাস্তব দাবি কোনো গুরুত্ব পাবে না।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই মন্তব্যকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা নিজেদের দেশ সামলাতে পারে না, তারা অন্যের ভূখণ্ড নিয়ে স্বপ্ন দেখে।”

মণিপুরেও এই মন্তব্যে ছড়িয়েছে ক্ষোভ। স্থানীয় নেতারা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য জাতিগত সংঘাতকে উস্কে দিতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠন এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে, ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো বিদেশি নেতার মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ একে “দৃঢ় অবস্থান” বলে সমর্থন করলেও, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করবে।