নয়াদিল্লি: ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। (Arudhra Radar)দেশীয়ভাবে তৈরি অত্যাধুনিক ‘আরুধ্রা’ রাডার সিমুলেশনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী স্টেলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫-কে ট্র্যাক করার ক্ষমতা দেখিয়েছে। এটি একটি কম্পিউটার-ভিত্তিক সিমুলেশন হলেও, এই অর্জন ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে রইল।
ডিআরডিওর তত্ত্বাবধানে তৈরি আরুধ্রা রাডারটি মূলত একটি মাল্টি-ফাংশন সার্ভেইল্যান্স রাডার। এটি শত্রুপক্ষের বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুকে দূর থেকে শনাক্ত করতে সক্ষম। সিমুলেশনে দেখা গেছে, এই রাডারটি এফ-৩৫-এর মতো অত্যন্ত কম রাডার ক্রস-সেকশন (আরসিএস) বিশিষ্ট স্টেলথ বিমানকেও সফলভাবে ট্র্যাক করতে পারে।
আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/west-bengal/jahangir-khan-supporters-jump-into-pond/
রাডারটির ইনস্ট্রুমেন্টেড রেঞ্জ ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং ২ বর্গমিটার রাডার ক্রস-সেকশনযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকে ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে।প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সিমুলেশনটি বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পরিস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে। এতে এফ-৩৫-এর স্টেলথ বৈশিষ্ট্য, উচ্চ গতি এবং কৌশলগত চলাফেরা বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
যদিও বাস্তব এফ-৩৫-এর সঙ্গে লাইভ টেস্ট এখনও হয়নি, তবু এই সিমুলেশন ভারতীয় বিজ্ঞানীদের দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত পরিপক্কতার প্রমাণ দিয়েছে।আরুধ্রা রাডারটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করতে পারে এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের পরিবেশেও কার্যকরী। এর অত্যাধুনিক সফটওয়্যার এবং সিগন্যাল প্রসেসিং প্রযুক্তি এটিকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযোগী করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের রাডার ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।এই সাফল্য আত্মনির্ভর ভারত (আত্মনির্ভর ভারত) অভিযানের আওতায় প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রগতির আরেকটি উদাহরণ। গত কয়েক বছরে ডিআরডিও এবং ভারতীয় শিল্প উভয়ই মিলে অনেকগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
আরুধ্রা রাডারের এই অর্জন দেখিয়ে দিল যে, ভারত ধীরে ধীরে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনছে।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টেলথ প্রযুক্তির যুগে এমন রাডারের গুরুত্ব অপরিসীম। এফ-৩৫-এর মতো বিমানকে শনাক্ত করার ক্ষমতা শত্রুপক্ষের আক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং সেনাবাহিনী এই রাডারকে তাদের নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সিমুলেশনের পর এখন বাস্তব পরীক্ষার পালা। ভবিষ্যতে প্রকৃত এফ-৩৫ বা সমতুল্য স্টেলথ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে লাইভ ট্রায়াল করা হবে। সেই সফলতা পেলে ভারত বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি হয়ে উঠবে যারা এ ধরনের উন্নত রাডার প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে।



