কলকাতা: আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এবছর কলকাতার রেড রোডে মহাসমারোহে এই বিশেষ দিনটি পালিত হতে চলেছে। আর এই মেগা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্যই শহরজুড়ে কড়া ট্র্যাফিক অ্যাডভাইজারি জারি করল কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের তরফে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার কারণে ১৪ জুন রাত ১০টা থেকেই রেড রোড-সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ রাখা হচ্ছে। আগামী ২১ জুন পর্যন্ত রেড রোডে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এর ফলে আগামী এক সপ্তাহ দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার বহু রুটে যান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হয়রানি রুখতে একাধিক বিকল্প রাস্তার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
যোগ দিবসের দিন অর্থাৎ ২১ জুন ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই দিন রাত ২টো থেকে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহরের বেশ কিছু রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই রাস্তাগুলির মধ্যে রয়েছে মৌলালি মোড় থেকে এজেসি বোস রোডের দক্ষিণমুখী অংশ, সেন্ট জর্জেস গেট রোড, সিআর অ্যাভিনিউয়ের দক্ষিণমুখী অংশ এবং জওহরলাল নেহরু রোডের উভয় দিক। এছাড়া স্ট্র্যান্ড রোডের নির্দিষ্ট কিছু অংশেও ভারী বা পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
পাশাপাশি, ২১ জুন রাত ২টো থেকে সাধারণ যান চলাচলের জন্য বেশ কয়েকটি রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্র্যাফিক পুলিশ। হসপিটাল রোডের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ, লাভার্স লেন, ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউ, কিংসওয়ে বা গোষ্ঠ পাল সরণি, কুইন্সওয়ে, ডাফরিন রোড এবং আউটরাম রোড সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া খিদিরপুর রোড, আরআর অ্যাভিনিউ এবং এসপ্ল্যানেড র্যাম্পের একাংশ দিয়েও ওই সময় গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে না। মেয়ো রোড বন্ধ থাকলেও, অনুষ্ঠানের বিশেষ পারমিট স্টিকার লাগানো গাড়িগুলিকে ওই রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
টানা এক সপ্তাহ রেড রোড বন্ধ থাকায় যানজট এড়াতে বিকল্প রুটের রূপরেখা তৈরি করেছে পুলিশ। ডালহৌসি ও হাওড়ামুখী বাসগুলিকে বেলভেডিয়ার রোড, এজেসি বোস রোড, টার্ফ ভিউ এবং এজেসি র্যাম্প হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতাগামী যানবাহনগুলিকে মেয়ো রোড, ডাফরিন রোড এবং জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ২১ জুন শহরের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে অন্যান্য সংযোগকারী রাস্তাতেও যান চলাচলের রুট তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা হতে পারে। যানজটের আশঙ্কা থাকায় যাত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রাস্তায় বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





