নয়াদিল্লি: সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করতে মোদী সরকার রাস্তার যানবাহন নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে (Driving Licence)। পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স (ডিএল)-এর মেয়াদ, গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর এবং পারমিট নবায়ন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার পরিকল্পনা চলছে। এতে কাগজপত্রের ঝামেলা অনেক কমবে এবং বারবার অফিসে ছুটে যাওয়ার হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে চলেছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ নিয়ে। বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাইসেন্সের মেয়াদ ২০ বছর বা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত থাকে। নতুন প্রস্তাব অনুসারে, ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীর বয়স ৫০ বছর না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হতে পারে। অর্থাৎ একবার লাইসেন্স নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে আর নবায়নের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
আরও দেখুনঃ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে শুভেন্দুর হাতে ঘুচল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ধাম তকমা
এতে বিশেষ করে যুবক এবং মধ্যবয়সী চালকরা বড় সুবিধা পাবেন। শুধুমাত্র ৫০ বছরের পর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।আরেকটি বড় স্বস্তির খবর হলো গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। বর্তমানে গাড়ি কেনা-বেচার সময় মালিকানা বদল করতে রেজিস্ট্রেশন অফিসে বারবার যেতে হয়, ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় এবং দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। নতুন নিয়মে এই পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে।
আধার, প্যান এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাত্র কয়েক ক্লিকে মালিকানা হস্তান্তর হয়ে যাবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।এছাড়া বাণিজ্যিক যানবাহনের পারমিট নবায়নও পুরোপুরি ডিজিটাল করার পরিকল্পনা চলছে। ট্রাক, ট্যাক্সি, অটোরিকশা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকরা আর অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হবে না।
অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ডকুমেন্ট আপলোড করে সহজেই পারমিট নবায়ন করা যাবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ‘পেপারলেস’ এবং ‘অফিস-ভিজিট-ফ্রি’ সেবা চালু করা।পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি বলেছেন, “আমরা চাই সাধারণ নাগরিক যেন সরকারি কাজে হয়রানির শিকার না হয়। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার আওতায় এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ মানুষের সময় বাঁচবে।” সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছে কয়েকটি রাজ্যে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে সারা দেশে একসঙ্গে চালু করা হবে।




















