নয়াদিল্লি: সিন্ধু জলচুক্তিতে বিশাল সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের। (Indus Water)কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দু’বছরের মধ্যে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার ভারতের পুরো নির্ধারিত অংশ পুরোপুরি ডাইভার্ট করে নিজেদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের কৃষি সম্পূর্ণভাবে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এবং দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাদি জমি এই জলের ওপরই চলে।
১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তির পর এই প্রথম ভারত এমন স্পষ্ট পদক্ষেপ নিল। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, পূর্বের নদীগুলো (রাভি, বিপাশা, শতদ্রু ) থেকে ভারতের ন্যায্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে। অতিরিক্ত জল যা আগে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যেত, তা এখন পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও জম্মু-কাশ্মীরের খেতে ব্যবহার করা হবে। শাহপুর কান্দি বাঁধসহ বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করে জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার কাজ চলছে।
জলশক্তি মন্ত্রকের সূত্র অনুসারে, আগামী দু’বছরে পরিকাঠামো তৈরি করে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।পাকিস্তানের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুতর। দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি। সিন্ধু, ঝিলাম ও চন্দ্রভাগা নদীর জল ছাড়া তাদের খাদ্য উৎপাদন প্রায় অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের ৮০ শতাংশেরও বেশি আবাদি জমি এই নদী ব্যবস্থা থেকে সেচ পায়। গম, ধান, তুলা প্রধান ফসলগুলোর উৎপাদন সরাসরি এই জলের ওপর নির্ভর করে।
জলের প্রবাহ কমলে খরা, ফসল নষ্ট এবং খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা।ভারত সরকারের যুক্তি, এটি কোনো নতুন আগ্রাসন নয়, বরং নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রয়োগ। দীর্ঘদিন ধরে ভারত তার পূর্ব নদীগুলোর পুরো জল ব্যবহার করতে পারেনি। অনেক জল অব্যবহৃত অবস্থায় পাকিস্তানে চলে যেত।
এখন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এই জল সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে সেচের সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, এতে ভারতের লক্ষ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন।পাকিস্তান অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ‘জল অস্ত্র’ হিসেবে দেখছে। তাদের তরফে বলা হয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন।




















