পাক সেনার নির্বিচার হত্যা POK তে! বন্ধ ইন্টারনেট-অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

মুজাফ্ফরাবাদ: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের জ্বলছে বিদ্রোহের আগুন। (PoJK)রাওয়ালকোট ও মুজাফফরাবাদ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
pojk-internet-blackout-jaac-protest-rawalakot-muzaffarabad-clashes

মুজাফ্ফরাবাদ: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ফের জ্বলছে বিদ্রোহের আগুন। (PoJK)রাওয়ালকোট ও মুজাফফরাবাদ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যে প্রশাসন গোটা অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

একইসঙ্গে চলছে অনির্দিষ্টকালের শাটার-ডাউন ধর্মঘট, যার ফলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মী উভয়ই রয়েছেন। বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ বঙ্গে প্রাক-বর্ষার তাণ্ডব! দক্ষিণবঙ্গের এই জেলাগুলিতে ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি

এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের দাবি উপেক্ষা করা হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ সংকট, প্রশাসনিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে ক্ষোভ জমে উঠেছিল বহুদিন ধরেই। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত কিছু আসন নিয়ে বিতর্ক আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুজাফফরাবাদসহ একাধিক এলাকায় জনসমাবেশের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। মোবাইল ডাটা ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং হিংসা ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাওয়ালকোটে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। প্রশাসনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছিল। আবার আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, আন্দোলনের জেরে গোটা অঞ্চলে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখা হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, বাজার বন্ধ রয়েছে এবং বহু এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা অর্থনীতির উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে JAAC-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযানের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে বহু কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google