সুখেন্দুশেখরের তোপে মমতা, দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি

‘ভাঙন যখন শুরু হয়, তখন তা সর্বগ্রাসী হয়। আগুন যখন লাগে, তখন তা সর্বগ্রাসী হয়।’ রবিবার এই মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহের সুর চড়িয়েছিলেন ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
sukhendu-sekhar-calls-for-full-scale-investigation-into-alleged-corruption

‘ভাঙন যখন শুরু হয়, তখন তা সর্বগ্রাসী হয়। আগুন যখন লাগে, তখন তা সর্বগ্রাসী হয়।’ রবিবার এই মন্তব্য করে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহের সুর চড়িয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী সুখেন্দুশেখর রায়। সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদও ত্যাগ করেছেন সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Shekhar Roy) ।

সোমবার সকালে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সুখেন্দুশেখরের (Sukhendu Shekhar Roy) এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

   

দল ছাড়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। সুখেন্দুশেখরের(Sukhendu Shekhar Roy) দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পরও দল কোনও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের মধ্যে দুর্নীতির বীজ রোপিত হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দুর্নীতি আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলের কোনও আদর্শ কখনওই ছিল না। ১৫ বছর আগে ক্ষমতায় আসার সময় থেকেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল যেভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, সেভাবে দল পরিচালিত হয়নি।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শুধু দুর্নীতির অভিযোগই নয়, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুখেন্দুশেখর। তাঁর বক্তব্য, দলের বিভিন্ন কমিটি এবং সাংগঠনিক স্তরে থাকা নেতাদের মতামতের কোনও মূল্য দেওয়া হতো না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হতো না।(Sukhendu Shekhar Roy) ফলে দলের ভিতরে এক ধরনের অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে জমা হচ্ছিল।সুখেন্দুশেখর বলেন, “এত বড় বিপর্যয়ের পর যে ধরনের আত্মসমালোচনা বা বিশ্লেষণ হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। যাঁরা বিভিন্ন কমিটিতে ছিলেন, তাঁদের মতামত গুরুত্ব পায়নি। অনেকেই নিরুপায় হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলেন।”

তাঁর মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের একাংশ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। জনগণের এই অনাস্থার বার্তা দল সঠিকভাবে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সুখেন্দুশেখরের কথায়, “মানুষ যখন অনাস্থা জ্ঞাপন করেন, তখন বুঝতে হবে কোথাও বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটেছে। আমি উপলব্ধি করেছি যে দল জনমন থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google