
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে (Surinder Singh)একটি সাধারণ কিন্তু হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা গেল। বিখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিংহের বাবা সুরিন্দর সিং ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোট দিয়ে গেলেন। সকালের দিকে জিয়াগঞ্জের একটি ভোটকেন্দ্রে সুরিন্দর সিংকে দেখা যায় সাধারণ মানুষের সারিতে দাঁড়িয়ে।
কোনও বিশেষ নিরাপত্তা বা ঢাকঢোল না করে, শান্তভাবে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন।সুরিন্দর সিং জিয়াগঞ্জেরই বাসিন্দা। অরিজিৎ সিংহের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এই জায়গাতেই। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই ছোট শহরে অরিজিৎ বড় হয়েছেন, স্থানীয় শ্রীপত সিং কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন। বাবা সুরিন্দর সিং এখানেই থাকেন, স্থানীয় একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান এবং সাধারণ জীবনযাপন করেন।
আরও দেখুনঃ বিকেল ৪টের পর থেকে বুথ দখলের আশংকা কমিশনের
ছেলের বিশ্বজোড়া খ্যাতি সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যরা জিয়াগঞ্জের মাটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছেন।ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে সুরিন্দর সিংকে দেখে স্থানীয় ভোটাররা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। অনেকে ছবি তুলতে চাইলেন, কেউ কেউ ‘অরিজিৎদার বাবা’ বলে সম্বোধন করে কথা বললেন। তিনি হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলেন তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার দেখে উপস্থিত সকলে মুগ্ধ হয়ে যান।জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ এলাকা মুর্শিদাবাদ জেলার একটি শান্ত অংশ হলেও প্রথম দফার ভোটে এখানেও উত্তেজনা ছিল।
তবে সুরিন্দর সিংয়ের ভোট দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে একটা ইতিবাচক আবেগ তৈরি হয়। অনেকে বলছেন, “অরিজিৎ আমাদের গর্ব। তার বাবাকে দেখে মনে হলো, খ্যাতি যত বড়ই হোক, নিজের শিকড় ভুললে চলবে না।” অরিজিৎ সিংহের পরিবারের সঙ্গে জিয়াগঞ্জের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। অরিজিৎ প্রায়ই বলেন, মুম্বইয়ের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে তিনি যতবার সম্ভব জিয়াগঞ্জে ফিরে আসেন।
তাঁর বাবা সুরিন্দর সিংও ছেলের এই মনোভাবের কথা জানিয়ে বলেছেন, “অরিজিৎ এখানকার মাটি, এখানকার মানুষ ভোলে না।” আজ তাঁর বাবার ভোট দেওয়ার ঘটনা সেই শিকড়ের টানকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রথম দফার ভোটে নানা অশান্তির খবর এলেও জিয়াগঞ্জের এই ভোটকেন্দ্রে সুরিন্দর সিংয়ের উপস্থিতি একটা শান্তির বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীও তাঁকে সাধারণ ভোটারের মতোই দেখেছে। কোনো বিশেষ সুবিধা নেওয়া হয়নি। এটাই তাঁর সাধারণ জীবনযাপনের প্রতিফলন।

