“ভোট অন্যত্র দিলে ফল খারাপ হবে”, বিতর্কে তৃণমূল নেতা

Kunal Ghosh Reacts as TMC Protests ED Action at I-PAC Office
Kunal Ghosh Reacts as TMC Protests ED Action at I-PAC Office

লাভপুর: দুয়ারে নির্বাচন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। এরই মধ্যে ভোটের ঠিক মুখে বীরভূম (Birbhum) জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু লাভপুর বিধানসভার অন্তর্গত দাঁড়কা অঞ্চলের সাউগ্রাম এলাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় পাড়ার নেতা ডালিম শেখ একটি দলীয় গ্রাম্য বৈঠকে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করেন, যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন “অন্য কোথাও ভোট দিলে কেটে পিস পিস করে দেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও টিভি৯ বাংলা এই ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করেনি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র একটি অসৌজন্যমূলক মন্তব্য নয়, বরং সরাসরি ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল।

   

বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, ডালিম শেখ তাঁর বক্তব্যে শুধু অন্য দলে ভোট না দেওয়ার হুঁশিয়ারিই দেননি, বরং ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করে পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্থা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে বক্তব্য শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, কেউ যদি অন্য দলে ভোট দেয়, তাহলে তাকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এই ধরনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু মানুষ এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন, আবার অনেকে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।