নির্বাচনের দিন বাইক বের করলে কড়া ব্যবস্থা, নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

election-commission-sends-letters-to-12-states-on-final-electoral-roll
election-commission-sends-letters-to-12-states-on-final-electoral-roll

প্রথম দফার ভোটের আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগেই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে জারি হল এক বিশেষ নির্দেশিকা, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। এবারের নির্দেশিকায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাইক চলাচল সংক্রান্ত কড়াকড়ি। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনওভাবেই অপ্রয়োজনীয় বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোনো যাবে না। এর আগে কোনও নির্বাচনে এতটা কঠোরভাবে বাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

নির্দেশিকায় (Election Commission) উল্লেখ করা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই সময়ের মধ্যে কোনও ব্যক্তি যদি অকারণে বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।

   

এছাড়াও, কোনও ধরনের বাইক র‍্যালি বা মিছিলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার তৎপরতা বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে বাইক র‍্যালি অনেক সময়েই উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। তাই আগেভাগেই এমন জমায়েত বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বা সন্তানের স্কুল সংক্রান্ত কোনও জরুরি কাজে বাইক নিয়ে বের হওয়া যাবে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও প্রমাণসাপেক্ষ কারণ দেখাতে হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র যুক্তিযুক্ত এবং প্রয়োজনীয় কারণেই বাইক ব্যবহার করা যাবে, অন্যথায় নয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হল, প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনে কাউকে বসানো যাবে না। কমিশনের মতে, একাধিক ব্যক্তি বাইকে চড়লে তা সহজেই জমায়েত বা মিছিলের রূপ নিতে পারে, যা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। তাই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসনকেও বিশেষভাবে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিয়মিত টহলদারি চালায় এবং কোথাও কোনও নিয়ম ভঙ্গ হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় নাকা চেকিং শুরু হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।