
শেষ দিনের প্রচারে কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের জনসভা থেকে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নারী সুরক্ষা, সিন্ডিকেট রাজ, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি। ভাষণের শুরুতেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই নির্বাচনকে তিনি শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচনের লড়াই হিসেবে দেখছেন না। অমিত শাহ বলেন, “এই ভোট আমাদের প্রার্থীকে বিধায়ক করার ভোট নয়। বিজেপি নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করার ভোট নয়। এটা বাংলাকে অনুপ্রবেশ-মুক্ত করার ভোট নয়।” তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি ভোটের গুরুত্বকে আরও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে চেয়েছেন—একটি প্রশাসনিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আহ্বান হিসেবে।
জনসভায় তিনি রাজ্যের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে নারী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহ বলেন, বাংলায় মহিলারা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় এলে বিজেপি রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং তাদের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার এলে বাংলার মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বেরোতে পারবেন, তাদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার হবে।”
এছাড়াও সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে সরব হন তিনি। অভিযোগ করেন, রাজ্যে সাধারণ মানুষের উপর সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং এতে প্রশাসনের নীরব সমর্থন রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হবে এবং স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।ভাষণের শেষাংশে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মমতা দিদি, তেরা সময় আব সমাপ্ত হো রাহা হ্যায়।” এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং তা ভোটের আগে বিজেপির আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকেই।

