জ্বালানি সংকটে রাশিয়া থেকে এলপিজি আনতে ট্যাংকার ভাড়া করার বিরল টেন্ডার

hpcl-russian-lpg-tender-india-energy-security-strategy

নয়াদিল্লি: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)। সংস্থাটি সম্প্রতি একটি বিরল টেন্ডার জারি করেছে, যেখানে রাশিয়া থেকে এলপিজি (LPG) আনার জন্য একটি ট্যাঙ্কার ভাড়া করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই টেন্ডার অনুযায়ী, নির্দিষ্ট জাহাজটিতে প্রায় ১২,০০০ মেট্রিক টন বুটেন এবং ৮,০০০ টন প্রোপেন বোঝাই করে ভারতে আনা হবে। এলপিজির এই দুই উপাদানই রান্নার গ্যাস এবং শিল্প ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই আমদানি ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

   

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ইতিমধ্যেই তার জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যপূর্ণ করার পথে এগোচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন রাশিয়া-সহ অন্যান্য দেশ থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে HPCL-এর এই পদক্ষেপ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃবাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য অমিত শাহের

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেও, তারা এশিয়ার দেশগুলিকে আকর্ষণীয় ছাড়ে জ্বালানি সরবরাহ করছে। জানা যাচ্ছে, রাশিয়া এলএনজি (LNG) প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে ভারতের মতো বড় ভোক্তা দেশে, বিক্রি করছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত তার জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে।

এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে ভারত নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। ভারতের এই অবস্থান ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’-র উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে কোনও একক শক্তির উপর নির্ভর না করে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে এই নতুন উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও শিল্পের চাহিদা মেটাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। তাই সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি এখন বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে।