
খড়গপুর: মোথাবাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনার বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন মোথাবাড়ি কাণ্ডে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত চালাচ্ছে এবং যাদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি তাদের মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগ রয়েছে। তিনি বলেন মমতা প্রথম থেকেই SIR র বিরোধিতা করে চলেছেন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করেছেন। এই আবহেই মালদায় এই ঘটনা ঘটে গিয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন এর মধ্যে তৃণমূলের হাত না থাকলে কখনোই তারা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটক করে রাখতে পারত না। তিনি প্রশ্ন তোলেন কিভাবে একটি লোক এত মানুষকে খেপিয়ে দিয়ে এই ধরণের হিংসার জন্ম দিতে পারে। দিলীপের দাবি এই ঘটনায় অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের কাছ থেকে সুবিধা পেয়েছে এবং তাদের ইন্ধনেই এই নক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন এই মুহূর্তে যদি অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হয় তাহলে মালদা, মুর্শিদাবাদের মত জায়গায় নির্বাচন স্বচ্ছভাবে হবে না।
আরও দেখুনঃ আরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে সরব রাহুল, রাজনৈতিক মঞ্চে তীব্র লড়াই
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া নিয়ে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত সাতজন বিচারক, যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা, মোথাবাড়ির কাছাকাছি কালিয়াচক-২ ব্লক অফিস এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে একদল উত্তেজিত জনতা তাঁদের ঘিরে ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে। গাড়িতে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন ফেলে দেয়। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেয় এবং এনআইএ-কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করেছেন। ঠিক এই আবহেই মালদায় এমন ঘটনা ঘটল।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের ইন্ধন ছাড়া এত বড় মাপের হিংসা এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা সম্ভব ছিল না। “একজন লোক কীভাবে এত মানুষকে খেপিয়ে তুলে এমন হিংসার জন্ম দিতে পারে? এর পেছনে পরিকল্পনা আছে,” প্রশ্ন তোলেন তিনি।

