
NASA: চাঁদের ঐতিহাসিক ফ্লাইবাই শেষে নাসার আর্টেমিস ২ মিশন পৃথিবীতে ফিরতে শুরু করেছে। এই মিশনের সময় নভোচারীরা চাঁদের এমন সব ছবি তুলেছেন যা আগে কখনও মানুষ দেখেনি। এই ছবিগুলোর মধ্যে মহাকাশ থেকে দৃশ্যমান একটি বিরল সূর্যগ্রহণও রয়েছে। নাসার মতে, এই অভিযানটি চন্দ্র পরিবেশে মানুষের প্রত্যাবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এর থেকে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নাসা তাদের আনুষ্ঠানিক ব্লগে জানিয়েছে যে, এই ফ্লাইবাইটি ৬ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় সাত ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। এই সময়ে নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন হাজার হাজার ছবি তুলেছেন। নাসা এই ছবিগুলোর কয়েকটি প্রকাশ করেছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও ছবি সামনে আসতে পারে, কারণ মহাকাশযানটির কর্মীরা এখন তাদের অভিযানের অর্ধেকেরও বেশি সম্পন্ন করেছে।

নাসার মতে, এই ফ্লাইবাই চলাকালীন মহাকাশযানের সদস্যরা চন্দ্রপৃষ্ঠে থাকা সংঘর্ষজনিত গর্ত, প্রাচীন লাভা প্রবাহ এবং ফাটলগুলো নথিভুক্ত করেছেন। তাঁরা পৃষ্ঠের রঙ, উজ্জ্বলতা এবং গঠনের বৈচিত্র্যও লিপিবদ্ধ করেছেন, যা চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করবে। এই অভিযানে ‘পৃথিবীর উদয়’ ও ‘পৃথিবীর অস্ত’-র মতো বিরল দৃশ্য দেখা যায়, সেইসাথে সূর্যের করোনার সাথে একটি সূর্যগ্রহণও ক্যামেরাবন্দী হয়। নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে ছয়টি উল্কাপাতের ঘটনাও লক্ষ্য করেন।
এই ঘটনাগুলোর সময়কাল ও অবস্থান আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য নাসার বিজ্ঞানীরা এখন এই ছবি, অডিও এবং ডেটা বিশ্লেষণ করছেন। এই তথ্য শৌখিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের সাথেও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, এই তথ্য ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং সেখানে মানুষের টেকসই উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, আর্টেমিস ২ মিশনটি ১০ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর উপকূল থেকে ফিরে আসার কথা রয়েছে। ক্রুদের উদ্ধার এবং ইউএসএস জন পি. মুরথা জাহাজে স্থানান্তরসহ পুরো ঘটনাটির সরাসরি সম্প্রচারও করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে ভবিষ্যতে আরও জটিল অভিযান পাঠানো হবে, যা চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের ভিত্তি স্থাপন করবে।

