
ওয়াশিংটন: টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে পশ্চিম এশিয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস। ডেডলাইনের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে চরম সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার এই ঘোষণার পরই শর্তসাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে সম্মত হয়েছে তেহরান।
বুধবার ট্রাম্প জানান, ইরানের পেশ করা ১০ দফার প্রাথমিক শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আপাতত সেদেশের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য অসামরিক পরিকাঠামোয় মার্কিন হামলা স্থগিত রাখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল, শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি হতে চলেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
শর্তের গেরো ও ইজরায়েলের অবস্থান
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, ইরান যদি সম্পূর্ণ এবং সুরক্ষিতভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়, তবেই আগামী ২ সপ্তাহের জন্য বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখবে আমেরিকা। উল্টোদিকে, এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের ‘কূটনৈতিক জয়’ হিসেবেই দাবি করেছে তেহরান। তাদের দীর্ঘমেয়াদি শর্তের মধ্যে রয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতিতে সায় দিলেও ইজরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননের ক্ষেত্রে এই চুক্তি প্রযোজ্য হবে না। সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান চলবে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ও প্রাণহানি Middle East Ceasefire
যুদ্ধবিরতি এবং হরমোজ প্রণালী খোলার ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় ১০০ ডলারের নিচে (ব্যারেল প্রতি ৯৪.৭৪ ডলার) নেমে এসেছে। চাঙ্গা হয়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারও। উল্লেখ্য, গত ৬ সপ্তাহে এই সংঘাতে ১২টি দেশে ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন ফৌজের বিধ্বংসী হামলায় খতম হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এবং নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।

