
বিশ্বখ্যাত গল্ফ তারকা টাইগার উডস (Tiger Woods) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে ফ্লরিডায় তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবারের সেই ঘটনার পর রাতেই অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি। প্রায় আট ঘণ্টা কারাবাসের পর জেল থেকে বেরিয়ে আসেন এই তারকা গল্ফার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বসতি এলাকায় নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন উডস। সেই সঙ্গে অভিযোগ, তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং বিপজ্জনক ভাবে গাড়ি চালানোর ফলে একটি ট্রেলারকে ধাক্কা মারেন। দুর্ঘটনার জেরে তাঁর গাড়িটি উল্টে গেলেও আশ্চর্যজনকভাবে বড় কোনও চোট লাগেনি তাঁর। তবে এই ঘটনায় একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, নেশা করে গাড়ি চালানো, দুর্ঘটনা ঘটানো এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ।
গ্রেফতারের পর তাঁকে জেলে পাঠানো হলেও পরে জামিন মঞ্জুর হয়। মার্টিন কাউন্টির শেরিফ জন এম বাডেনসিক জানিয়েছেন, উডসকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হয়নি। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। শেরিফ আরও বলেন, আইন অনুযায়ী যা করার তা করা হবে, তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাউকে জেলে আটকে রাখার পক্ষপাতী নন তাঁরা। তাঁর শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল এবং তিনি ভালো আছেন বলেই জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, উডস তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং এই পরিস্থিতিতে পড়ায় তিনি দুঃখিত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, উডসের কিছু ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে, যার জেরেই এমন ঘটনা ঘটছে।
উডসের বিরুদ্ধে এর আগেও বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অন্যান্য বিতর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ফলে এই নতুন ঘটনা তাঁর ভাবমূর্তিতে আরও ধাক্কা দিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। যদিও গুরুতর কোনও আঘাত না লাগা এবং দ্রুত জামিন পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তাঁর অনুরাগীরা। এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে—অভিযোগগুলি প্রমাণিত হলে এই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদের জন্য কঠোর শাস্তিও অপেক্ষা করতে পারে।











