
কলকাতা: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলিতে রামনবমী পালনকে কেন্দ্র করে ফের সরগরম হয়ে উঠল কলকাতার ছাত্র রাজনীতি। বৃহস্পতিবার দক্ষিণপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)-র উদ্যোগে যাদবপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমীর পুজো ঘিরে তৈরি হল চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।
যাদবপুরে স্লোগান যুদ্ধ ও উপাচার্যের হস্তক্ষেপ
জানা গিয়েছে, গত বুধবারই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে রামনবমীর পুজোর অনুমতি চেয়েছিলেন এবিভিপি-র নেতারা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামের মূর্তি নিয়ে উপস্থিত হন এবিভিপি-র সদস্যেরা। এরপরেই সেখানে জড়ো হন বাম মনোভাবাপন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যেরা। শুরু হয় দু’দলের মধ্যে তীব্র স্লোগান যুদ্ধ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে এবং বচসা যাতে বড় আকার ধারণ না করে, তার জন্য তড়িঘড়ি আসরে নামেন খোদ উপাচার্য।
কী বলছে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠন?
এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাসের দাবি, “আমরা যখন পুজো করছিলাম, তখন অতিবাম কিছু ছাত্র এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তবে উপাচার্য নিজে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। আমাদের পুজো নির্বিঘ্নেই হচ্ছে।” তাঁদের দাবি, উপাচার্য মৌখিক অনুমতি দিলেও কোনও লিখিত অনুমতি দেননি।
পালটা বাম মনোভাবাপন্ন সংগঠন আরএসএফ (RSF)-এর সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, “ক্যাম্পাসে যে কোনও পুজোই হতে পারে, সরস্বতী পুজোও হয়। কিন্তু গত দশ বছরে এই রাম পুজোকে ঘিরে যে ভাবে আরএসএস সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি ও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, আমাদের আপত্তি ঠিক সেখানেই। কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, মৌখিক বা লিখিত কোনও অনুমতিই ছিল না।”
যাদবপুর কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও অতীতের নজির
যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য স্পষ্ট দাবি করেছেন, তাঁরা ক্যাম্পাসে পুজোর অনুমতি দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল জানান, “বুধবার ছাত্ররা আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা লিখিত ভাবে কোনও অনুমতি দিইনি, তবে বাধাও দিইনি।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরের লাগাতার চেষ্টার পর গত বছর (২০২৫ সালেও) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই যাদবপুর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে রামনবমী পালন করেছিল এবিভিপি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমতি বাতিল, পুজো গেটের বাইরে
অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-কে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ স্পষ্ট জানান, “ক্যাম্পাসে একটি দল অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তা দেওয়া যায়নি। কারণ এখানে শুধুই সরস্বতী পুজোর অনুমতি রয়েছে।” অনুমতি না মেলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরেই রামের পুজো শুরু করেছে এবিভিপি। উপাচার্যের কথায়, মূল ফটকের বাইরে কিছু হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।
বৃহস্পতিবার রামনবমীর সরকারি ছুটি থাকায় বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়, আর তার মাঝেই এই পুজো ঘিরে দিনভর চলল বিস্তর রাজনৈতিক তরজা।
আরও পড়ুন- বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে তৃণমূল প্রার্থী

