লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৩ হাজার! মিটবে বকেয়া ডিএ! ভোটের আগে BJP-র খসড়ায় আর কী কী চমক?

West Bengal BJP Manifesto

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। আগামী ৫ এপ্রিল প্রকাশিত হতে পারে গেরুয়া শিবিরের বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহার। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে এই ইশতেহারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক একাধিক চমকপ্রদ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হবে বলে খবর।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা খসড়া ইশতেহার অনুযায়ী, বিজেপি তাদের প্রচারকে মূলত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন এবং মহিলাদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে সাজাতে চাইছে।

   

ইশতেহারের ৩টি মেগা প্রতিশ্রুতি

ক্ষমতায় এলে আমজনতার জন্য বিজেপির খসড়া ইশতেহারে সবচেয়ে বড় তিনটি চমক হল-

বকেয়া ডিএ (DA): সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের সমস্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: মহিলাদের জন্য তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনুদান বাড়িয়ে মাসিক ৩ হাজার টাকা করা হবে।

যুবসাথী প্রকল্প: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

দুর্নীতি দমন ও ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ West Bengal BJP Manifesto

খসড়া ইশতেহারে আসন্ন নির্বাচনকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগ তুলে, তাদের ১৫ বছরের কার্যকলাপ নিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিজেপি। একইসঙ্গে রাজ্যে ‘মাফিয়া রাজ’ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

কর্মসংস্থান ও শিল্পে জোর

রাজ্যের সব সরকারি শূন্যপদে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতে পারে৷ সিঙ্গুরে জমির মালিকদের সম্মতিতে ১ হাজার একর জমিতে বিশাল শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে। এছাড়া রাজ্যে আরও ৪টি বড় শিল্প পার্ক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চা ও পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং দুর্গাপুর ও বার্নপুর স্টিল প্ল্যান্টের উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।

পরিকাঠামো ও কৃষি উন্নয়ন

এছাড়াও ইশতেহারে থাকবে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের নামে রাজ্যে ৪টি নতুন শহর তৈরি এবং মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দরের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ এবং কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে গভীর সমুদ্রবন্দর। ধানচাষিদের জন্য সহায়ক মূল্য (MSP) নিশ্চিত করা এবং আলুচাষিদের সহায়তার পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ বাজার গড়ে তোলা হবে।

নারী নিরাপত্তা ও সংস্কৃতি

মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন এবং পুলিশকে আরও সংবেদনশীল করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে কড়া নজরদারি চালানো হবে।

বাংলার সংস্কৃতির প্রসারে কুর্মালি ও রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন এবং বাংলা সিনেমার পুনরুজ্জীবনের কথাও বিজেপির ইশতেহারে থাকতে পারে।