
পাথরপ্রতিমা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় এক বর্ণাঢ্য জনসভা থেকে নির্বাচনী প্রচারের দামামা বাজালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভা থেকে যেমন বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ শানালেন তিনি, তেমনই আগামীর জন্য এলাকার ভোটারদের কাছে তুলে ধরলেন দলের ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’। একইসঙ্গে কর্মীদের সাফ জানিয়ে দিলেন, গতবারের জয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে এবার অন্তত ৪০ হাজার ভোটের লিড নিশ্চিত করতে হবে।
জনকল্যাণে ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’
চতুর্থবারের জন্য নবান্ন দখলের লড়াইয়ে নেমে এদিন পাথরপ্রতিমাবাসীর জন্য একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্পের আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর ঘোষিত ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’র মূলে রয়েছে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলি। তিনি জানান, তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে-
১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
২. আবাস যোজনার মাধ্যমে প্রত্যেকের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করা হবে।
৩. প্রতিটি ব্লক ও টাউনের বাসিন্দাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে চিকিৎসা পরিষেবা।
৪. কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হবে নলবাহিত পানীয় জল।
৫. বয়স্ক নাগরিকদের জন্য সুনিশ্চিত করা হবে বার্ধক্যভাতা।
কৃষি বাজেট ও রাজনৈতিক লক্ষ্য Abhishek Banerjee Patharpratima rally
কৃষিনির্ভর এই এলাকায় দাঁড়িয়ে এদিন বড় ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সেনাপতি। তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে কৃষকদের স্বার্থে ৩০ হাজার কোটি টাকার কৃষি বাজেট বরাদ্দ করা হবে। রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে বিজেপিকে একহাত নিয়ে অভিষেক বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার হকের টাকা আটকে রাখলেও উন্নয়ন থমকে থাকেনি। মানুষের লড়াইয়ে তৃণমূল পাশে ছিল এবং থাকবে।” গেরুয়া শিবিরকে লক্ষ্য করে তাঁর চ্যালেঞ্জ, বিজেপি যেন এ রাজ্যে ৫০টি আসনের গণ্ডিও পেরোতে না পারে।
দ্বিগুণ ব্যবধানের টার্গেট
গত বিধানসভা নির্বাচনে পাথরপ্রতিমা আসনে তৃণমূল প্রার্থী প্রায় ২২,১৩৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এদিন সেই পরিসংখ্যান মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এবার লক্ষ্য ৪০ হাজারের বেশি ব্যবধান।” অর্থাৎ গতবারের তুলনায় জয়ের টার্গেট কার্যত দ্বিগুণ বেঁধে দিলেন তিনি।
উপসংহার: এপ্রিলের শেষলগ্নে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ। তার আগে পাথরপ্রতিমার এই মেগা সভা থেকে উন্নয়নের ‘রোডম্যাপ’ পেশ করে আদতে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

