৭ বছর পর যাবজ্জীবনের রায় কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী আসিয়া আন্দ্রাবিকে

asiya-andrabi-life-imprisonment-uapa-case-delhi-court

নয়াদিল্লি: ভারত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা করতে চেয়েছিল আসিয়া আন্দ্রাবি। (Asiya Andrabi)সঙ্গে ছিল তার দুই সহকারী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরীন। ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিল এরা তিনজন। দীর্ঘ ৭ বছর মামলা চলার পর আজ দিল্লির বিশেষ আদালত তাকে যাবজ্জীবন করা দন্ডে দণ্ডিত করেছে। একই মামলায় তার দুই সহযোগী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরীনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলাটি মূলত নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান এ মিল্লাতের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছিল বলে অভিযোগ। কেন্দ্র সরকার ২০০৪ সালে এই সংগঠনটিকে বেআইনি ঘোষণা করে।

   

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত তিনজনই সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ প্রচার এবং কাশ্মীরে অশান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, তারা সংগঠনের মাধ্যমে জনসমর্থন জোগাড় করা, উস্কানিমূলক প্রচার চালানো এবং বিভিন্ন কার্যকলাপ সমন্বয় করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

আরও দেখুনঃ কোনও আলোচনা হয়নি! ফের ট্রাম্পের মিথ্যাচার ফাঁস করল ইরান

বিশেষ আদালত তাদের বিরুদ্ধে Unlawful Activities (Prevention) Act (UAPA)-এর একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে ধারা ১৮ (ষড়যন্ত্র) এবং ধারা ৩৮ (সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যপদ) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC)-এর আওতায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র মতাদর্শগত স্তরে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং সক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। আদালতও সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই এই কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) আসিয়া আন্দ্রাবিকে গ্রেফতার করে। এরপর দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হল। এই মামলাটি কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের চলমান কঠোর পদক্ষেপেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে দুখতারান এ মিল্লাত সংগঠনটি একসময় দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। তারা UAPA-র অধীনে জারি হওয়া নোটিফিকেশনের কপি চেয়েছিল এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকা থেকে নিজেদের নাম সরানোর দাবি তোলে।

তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আইন অনুযায়ী যে প্রক্রিয়ায় এই ধরনের আবেদন করা উচিত ছিল, সংগঠনটি তা অনুসরণ করেনি। ২০২৩ সালের এক নির্দেশে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, UAPA-র ধারা ৩৫ ও ৩৬ অনুযায়ী সংগঠনগুলিকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়, যা এখানে করা হয়নি।