
কলকাতা: সুইস সংস্থা আইকিউএয়ার (IQAir)-এর ২০২৫ সালের বিশ্ব বায়ুমান রিপোর্টে চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ প্রকাশিত এই রিপোর্টে ফের একবার ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ। দূষণের নিরিখে বিশ্বের তাবড় শহরগুলিকে পিছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এসেছে ভারতের এক শহর৷ না, রাজধানী দিল্লি নয়৷ দূষণের ছোবলে ন্যূব্জ উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত ছোট্ট শহর লোনি ।
বিশ্বের সবথেকে দূষিত শহর: কেন শীর্ষে লোনি?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লোনির বার্ষিক গড় PM২.৫ ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১১২.৫ মাইক্রোগ্রাম। যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২৩% বেশি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বেঁধে দেওয়া নিরাপদ সীমার থেকে ২২ গুণ বেশি।
PM২.৫ কী? এগুলি বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কণা, যা সরাসরি ফুসফুস ও রক্তে মিশে যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শে হাঁপানি, হৃদরোগ এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।
লোনির চারপাশে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চল, ইটের ভাটা এবং ভারী যানবাহনের ধোঁয়া এই বিষাক্ত পরিস্থিতির প্রধান কারণ। এছাড়া শীতকালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার খড় পোড়ানো উত্তর ভারতের দূষণকে ৬০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
ভারতের হালহকিকত: দিল্লি ও মেঘালয়ের উদ্বেগ most polluted city of India
লোনি শীর্ষে থাকলেও পিছিয়ে নেই ভারতের অন্যান্য প্রান্তও। বিশ্বের তৃতীয় দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে মেঘালয়ের বার্নিহাট। চতুর্থ স্থানে রয়েছে রাজধানী দিল্লি। তবে আশার কথা হল, দিল্লির দূষণ গত বছরের তুলনায় ৩% কমলেও বিশেষজ্ঞরা একে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। কারণ, বিশ্বের দূষিত রাজধানী শহরগুলির তালিকায় দিল্লি এখনও শীর্ষস্থানে। সবথেকে দূষিত দেশ হিসেবে ভারতের স্থান ষষ্ঠ। ভারতের গড় দূষণ WHO-এর নির্দেশিকার চেয়ে ১০ গুণ বেশি।
বিশ্বজুড়ে দূষণের গ্রাফ
আইকিউএয়ার-এর রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে নির্মল বাতাস মানুষের কাছে এক দুষ্প্রাপ্য বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবথেকে দূষিত দেশের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। সেখানে দূষণের মাত্রা WHO-এর সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি। মাত্র ১৪% শহর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড বজায় রাখতে পেরেছে, যা গত বছর ছিল ১৭%।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবানলের ধোঁয়া উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাতাসেও বিষ ছড়িয়েছে। তবে লা নিনা আবহাওয়ার প্রভাবে লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো দেশের বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
ভারতের ২৫টি শহর বিশ্বের সবথেকে নিম্নমানের বায়ুস্তরে রয়েছে। কোটি কোটি ভারতীয়র কাছে বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নেওয়াটা এখন কেবলই একটি দূরবর্তী স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারণ ও জনসচেতনতা না বাড়লে এই ‘নিঃশব্দ ঘাতক’ আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।

