ছয় বছরের বিরতির পর বাণিজ্য-কৈলাশ দর্শনে খুলতে চলেছে লিপুলেখ

lipulekh-pass-india-china-border-trade-resume-2026

দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতির পর আবারও খুলতে চলেছে ভারত-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ লিপুলেখ পাস। (Lipulekh Pass) উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য রুট দিয়ে চলতি বছর থেকেই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এছাড়াও কৈলাশ পর্বতের দর্শনে ভারতীদের অধ্যাত্মিক পিপাসা মিটবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

লিপুলেখ পাস হিমালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ গিরিপথ, যা বহু বছর ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতি বছর সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বাণিজ্য মরশুম চলে। তবে ২০২০ সালে সীমান্ত উত্তেজনার জেরে এই বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

   

আরও দেখুনঃ যুদ্ধের দাম বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের! আজ থেকে নতুন দাম কত হল?

পিথোরাগড়ের জেলা শাসক অশীষ ভাটগাই জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুসারে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বাণিজ্য পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) পাওয়া গিয়েছে, যা এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

এই বিষয়ে বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যসচিব আনন্দ বর্ধনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গৃহ মন্ত্রক এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক-ও এই বাণিজ্য পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে অনুমোদন দিয়েছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় স্তরে সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিলেছে বলেই জানা যাচ্ছে।

লিপুলেখ পাস দিয়ে মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সীমান্ত পার হয়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের লেনদেন করেন। এই বাণিজ্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবিকা অনেকাংশে এই বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে সীমান্ত এলাকার অর্থনৈতিক কার্যকলাপ আবার চাঙ্গা হবে। পাশাপাশি ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবুও এই সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলেও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, স্বাস্থ্যবিধি এবং অনুমোদিত পণ্যের তালিকা সবকিছুই কঠোরভাবে মেনে চলা হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ দেখা গিয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, আগের মতোই বাণিজ্য চলতে শুরু করলে তাঁদের আয়ের পথ আবার খুলবে। পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।