হালাল মাংস বিক্রিতে না! মুসলিমদের পাল্টা চালে বিপাকে রেস্তোরাঁ মালিক

london-restaurant-halal-meat-row-hammersmith

লন্ডনের হ্যামারস্মিথ এলাকায় একটা ছোট্ট ভারতীয় রেস্তোরাঁ ‘রঙ্গরেজ’-এর মালিক হরমন সিং কপূর (halal meat)। শিখ ধর্মাবলম্বী এই ব্যবসায়ী তার রেস্তোরাঁয় হালাল মাংস বিক্রি করতে অস্বীকার করেছেন, আর সেই কারণে তিনি মৃত্যুর হুমকি, ধর্ষণের হুমকি, ডিম ছোড়া, অনলাইনে অপমান সবকিছুর শিকার হয়েছেন। গত ১৪ মার্চ, ২০২৬-এ প্রায় ১০০ জনের একটা ভিড় তার রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হয়ে প্রবেশপথ আটকে দেয়, হুমকি দেয়।

পরের দিন পুলিশ এসে হরমন সিং কপূরকেই হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে, আর অনেকে বলছেন এটা লন্ডনের ‘পতন’-এর প্রমাণ।হরমন সিং কপূর বলছেন, শিখ ধর্মে ঝটকা মাংসের পদ্ধতি অনুমোদিত, হালাল নয়। তাই তার রেস্তোরাঁয় ১৬ বছর ধরে শুধু নন-হালাল মাংসই বিক্রি হয়েছে। দোকানের সামনে বড় করে লেখা আছে “প্রাউডলি উই ডোন্ট সেল হালাল”। এই সাইন দেখে কিছু মুসলিম গ্রাহক বা গ্রুপ অসন্তুষ্ট হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ভোট ঘোষণার দিনেই DA নিয়ে বড় আপডেট মমতার

মাসের পর মাস হয়রানি চলছে ফেক রিভিউ, অনলাইনে অ্যাবিউজ, পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি। হরমন বলছেন, তার মেয়েকে স্টক করা হয়েছে, স্ত্রী-সন্তানদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রেস্তোরাঁ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তারপরও সমস্যা থামেনি। ১৪ মার্চ ভিড় জড়ো হলে পুলিশ এসেছে, কিন্তু শেষমেশ গ্রেফতার হয়েছে হরমন নিজেই।ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ অফিসাররা তার হাতকড়া পরাচ্ছে, আর হরমন চিৎকার করে বলছেন, “আমি কী করেছি?

আমি শুধু আমার ধর্ম মেনে চলছি!” অনেকে বলছেন, ভিড় যারা হুমকি দিচ্ছিল, তাদের গ্রেফতার না করে কেন ব্যবসায়ীকে ধরা হল? হরমনের সমর্থকরা, বিশেষ করে ডানপন্থী গ্রুপ এবং টমি রবিনসনের মতো ব্যক্তিরা, এটাকে ‘ইসলামের দখল’-এর উদাহরণ বলে প্রচার করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ চলছে “লন্ডন হ্যাজ ফলেন”, “ব্রিটেন ইজ ফলিং টু ইসলাম”। কেউ কেউ বলছেন, এটা মুসলিম ‘মব’-এর চাপে পুলিশের পক্ষপাতিত্ব।

অন্যদিকে, কিছু সূত্র বলছে হরমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল হুমকি দেওয়া বা ইসলামোফোবিয়া ছড়ানো। তার একটা পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমি একটা লাইফ নেব” বা ছুরি বহনের কথা যা পুলিশের নজরে এসেছে। কিন্তু তার সমর্থকরা বলছেন, এটা আত্মরক্ষার কথা, হুমকির জবাব। রেস্তোরাঁ বন্ধের পরও হয়রানি চলছে বলে দাবি তার।