“আগে দেশে ফিরুন, তারপর শুনানি”, বিজয় মালিয়াকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের

Vijay Mallya Bombay High Court

মুম্বই: পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়াকে নিয়ে কড়া অবস্থান নিল বম্বে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, মালিয়া যদি ভারতে ফিরে আসেন, তবেই তাঁর আর্জি শোনা হবে। ভারত থেকে বাইরে থেকে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে আদালতের ছাড়পত্র চাওয়া যাবে না বলে আদালত মন্তব্য করেছে।

আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ

বিচারপতিদের বেঞ্চ মালিয়ার আইনজীবীকে উদ্দেশ্যে করে বলে, “আপনাকে ফিরে আসতে হবে। যদি ফিরে না আসতে পারেন, তবে আমরা এই আর্জি শুনতে পারব না।” আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, মালিয়া দেশের বাইরে থেকে আইনি প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং একই সাথে ভারতীয় আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে সুবিধা নিতে চাইছেন।

   

কী নিয়ে মামলা? Vijay Mallya Bombay High Court

বিজয় মালিয়া বম্বে হাইকোর্টে দুটি পিটিশন দাখিল করেছেন। এর মধ্যে একটিতে তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ (Fugitive Economic Offender – FEO) ঘোষণার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অন্যটিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইনের (২০১৮) সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ৭০ বছর বয়সী এই মদ্য ব্যবসায়ী ভারতে জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত।

হলফনামা দাখিলের নির্দেশ

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালত মালিয়াকে এই মর্মে হলফনামা দাখিল করতে বলেছে যে, তিনি আদৌ ভারতে ফিরতে ইচ্ছুক কি না। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রশেখর বলেন, “আপনারা আগেই যুক্তি দিয়েছেন যে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও শুনানি পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু আগে হলফনামা দাখিল করে তা স্পষ্ট করুন।”

মালিয়ার পক্ষে আইনজীবী অমিত দেশাই যুক্তি দেন যে, নজির অনুযায়ী আবেদনকারীর শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই শুনানি সম্ভব। যদিও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এর তীব্র বিরোধিতা করে জানান, পলাতক ঘোষণার পরেই মালিয়া FEO আইনের বিরোধিতা করছেন।