হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদে আজ ‘জলসা-ই-ইউম-উল-কুরআন’ (Owaisi)অনুষ্ঠানে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি একটি তীব্র ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী মার্চ মাসে তেলঙ্গানায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চালু হবে। বিজেপি এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আমাদের নাগরিকত্বের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ওয়াইসি এই অভিযোগ করে বলেন যে, এটি একটি ‘ব্যাকডোর এনআরসি’র মতো কাজ করবে এবং অনেক যোগ্য ভোটারকে বঞ্চিত করতে পারে।’ইউম-উল-কুরআন’ অনুষ্ঠানটি হায়দরাবাদের মসজিদ-ই-চৌক বা অন্যান্য স্থানে আয়োজিত হয়েছে, যেখানে কুরআনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এই ধর্মীয় সমাবেশে ওয়াইসি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসিআই) দ্বারা পরিচালিত এসআইআর প্রক্রিয়া তেলঙ্গানায় মার্চ মাসে শুরু হবে।
আরও দেখুন: বাংলায় আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর গায়ে জিপিএস ট্র্যাকার কেন? বিতর্ক উস্কালেন সিইও
এই প্রক্রিয়া ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধন, যাচাই এবং অযোগ্য নাম অপসারণের জন্য করা হয়। কিন্তু ওয়াইসি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের লক্ষ্য করে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে অনেককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে।তেলঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) সুদর্শন রেড্ডি জানিয়েছেন যে, এসআইআর-এর প্রস্তুতি চলছে।
এপ্রিল-মে মাসে নোটিফিকেশন জারি হতে পারে। বর্তমানে ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’ চলছে, যাতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটারদের লিঙ্ক করা হচ্ছে। যদি কোনো নাম ম্যাপ না হয়, তাহলে প্রমাণপত্র দিয়ে যাচাই করতে হবে। ওয়াইসি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় অনেকে, বিশেষ করে দরিদ্র, সংখ্যালঘু ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ, নথি না থাকায় বাদ পড়তে পারেন। তিনি এটাকে বিজেপির ‘নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার’ চক্রান্ত বলে অভিহিত করেন।
এআইএমআইএম ইতিমধ্যে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে বিস্তারিত আপত্তি জমা দিয়েছে। তারা বলছে, প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হলে যোগ্য ভোটারদের নাম কাটা যেতে পারে। ওয়াইসি বলেন, “একজন নাগরিকের নাম কাটা হলে তা ন্যায়ের চেয়ে বড় অবিচার।” তিনি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নথি সংগ্রহ করে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
এই অনুষ্ঠানে তিনি কুরআনের শিক্ষা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক ইস্যু তুলে ধরেন।বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে যে, এসআইআর নিরপেক্ষভাবে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার জন্য। তারা বলছে, এটি অযোগ্য বা ডুপ্লিকেট নাম অপসারণের প্রক্রিয়া, যা সকলের জন্য। কিন্তু ওয়াইসির অভিযোগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। তেলঙ্গানায় সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে।




















