মুম্বই: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তন। গত বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর শূন্য পদে বসতে চলেছেন স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। আজ, শনিবারই তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও তথ্য নেই বলেই জানিয়েছেন এনসিপি (এসপি) প্রধান তথা অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা
শনিবার মুম্বইয়ে এনসিপি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই সুনেত্রা পাওয়ারকে দলের বিধায়ক ও নেত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে তিনি বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য নন৷ এর পরেও উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
এই বিষয়ে শরদ পাওয়ারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনও তথ্য নেই। হয়তো তাঁর দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদপত্রে দেখলাম প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তটকরে কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আমার সঙ্গে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”
থমকে গেল দুই গোষ্ঠীর সংযুক্তি প্রক্রিয়া Sharad Pawar breaks silence on Sunetra
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে এনসিপি-র দুই শিবিরের পুনর্মিলন প্রক্রিয়াও ধাক্কা খেয়েছে। শরদ পাওয়ার জানান, গত চার মাস ধরে অজিত পাওয়ার ও জয়ন্ত পাতিলের নেতৃত্বে দুই দলের একীভূত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কথা চলছিল। এমনকি ১২ ফেব্রুয়ারি সংযুক্তির দিনও ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু অজিতের অকাল প্রয়াণে সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে এনসিপি-তে ভাঙন ধরিয়ে ৪০ জনেরও বেশি বিধায়ক নিয়ে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারে যোগ দিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। এরপরই শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন অংশটি ‘ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি- শরদচন্দ্র পাওয়ার’ নামে পরিচিত হয়।
মহাযুতি জোটের সমর্থন
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস শুক্রবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অজিত পাওয়ারের উত্তরসূরি নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণ এনসিপি-র অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ফড়নবিস বলেন, “এনসিপি যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তাকেই সমর্থন করব। এই কঠিন সময়ে আমরা অজিত পাওয়ারের পরিবার ও দলের পাশে রয়েছি।”
দুর্ঘটনা
উল্লেখ্য, গত বুধবার বারামতি বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার সময় ভেঙে পড়ে অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড বিমান। ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার ছাড়াও এই দুর্ঘটনায় পাইলট ও কেবিন ক্রু-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বারামতির বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে শরদ পাওয়ার ও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।



