
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা করল ভারত। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে নয়াদিল্লির স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, পাকিস্তানের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। হামলায় নারী, শিশু ও স্থানীয় ক্রিকেটারদের মৃত্যুর ঘটনাকে তিনি “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে বর্ণনা করেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরান–কাবুল সীমান্তে উত্তেজনা চরমে। মাত্র দুই মাস আগে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এ সপ্তাহে ফের পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তালিবানের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা এই লড়াই নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
ভারতের তীব্র অবস্থান
রাষ্ট্র সংঘে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিশ পাকিস্তানের “trade and transit terrorism”-এরও নিন্দা জানান—যে অভিযোগ অনুযায়ী ইসলামাবাদ বারবার স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের জন্য বাণিজ্য ও ট্রানজিট রুট বন্ধ করে দিচ্ছে।
তার কথায়, “বহু বছর ধরে বিপদের মুখে থাকা এক স্থলবেষ্টিত দেশের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা WTO-র নীতিমালার নগ্ন লঙ্ঘন। দুর্বল ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রের প্রতি প্রকাশ্য হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্র সংঘ সনদের প্রতি চরম অসম্মান।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।”
অক্টোবর থেকেই অগ্নিগর্ভ সীমান্ত India condemns Pakistan Afghanistan airstrikes
গত অক্টোবরেই পাকিস্তানের একটি বিমান হামলার পর কাবুল পাল্টা আঘাত হানে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফরের মাঝেই সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়—২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর সীমান্তে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ।
সপ্তাহের পর সপ্তাহ লড়াই চলার পর ১৯ অক্টোবর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দু’দেশ। কিন্তু পরিস্থিতি থিতু হওয়ার আগেই নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তালিবান মুখপাত্র দাবি করেছেন, “আক্রমণ শুরু করেছে পাকিস্তান, কাবুল বাধ্য হয়ে জবাব দিয়েছে।”
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান
নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে হরিশ বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে যাতে ISIL, আল-কায়েদা, লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদসহ রাষ্ট্র সংঘ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের বিস্তার ঘটাতে না পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
তালিবানকে নিয়ে বাস্তববাদী নীতি চাই: ভারত
ভারতের মতে, শুধুই শাস্তিমূলক নীতি কাজ করছে না। তালিবানের সঙ্গে “প্রাগম্যাটিক এঙ্গেজমেন্ট”-এর প্রয়োজন রয়েছে।
হরিশ বলেন, “একটি সুসংগত কূটনৈতিক নীতি প্রণোদনা সৃষ্টি করতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত উপকার দেবে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষকে।”
রাষ্ট্র সংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারত দাবি তুলেছে—আফগানিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য আরও সূক্ষ্ম, বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক নীতি গ্রহণ করা হোক।













